#৩ - বলব কি ভাই, আজগুবি ছাই
ভালই ছিলাম চাঁদনি চকের আপিসে। মন দিয়ে কাজ করার ফাঁকে ফাঁকে এ মোড় সে মোড় ঘুরে ঘুরে পেটের মধ্যে আমড়া, ঝালমুড়ি, কচুরি, সিঙ্গারা পাচার করছিলাম। হঠাৎ মা ফোন করে বলে কিনা LIC-র ক্যানটিনে ডিনারে যেতে হবে। কিছু অতিথি আসবেন নাকি।
মোক্ষম চালটি তখনও বুঝিনি। বুঝলাম কিছুক্ষণ পরে, যখন সায়ন দা এসে আমার টেবিলের পাশে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চোখ টিপে টিপে বিশ্রী রকম হাঁসতে লাগল। ব্যাপারখানা এই; ওর কোন এক বিহারি আত্মীয়র মেয়ের সঙ্গে আমার বিয়ের প্রস্তাবনা চলছে। কন্যা মার্কিন মুলুকে জ্ঞান অর্জনে ব্যস্ত।
বিষয়টি বোধগম্য হতেই মা কে ফোন করে বকাবকি করার পাশাপাশি বুঝিয়ে-সুঝিয়েও বল্লাম (কতবারই তো বলেছি, তবু) কেন আমি কিছুতেই বিয়ে করব না। মা-র এই হেন কূট চাল বিফলে যাওয়ায় মা ভারি মুষড়ে পড়ল। কিন্তু ভেজা কাঠ ভাঙবে তবু মচকাবে না। তাই মা আমায় পালটা বল্লে এই ক্ষণে আমার কর্তব্য হচ্ছে সামান্য সৌজন্যটুকু বজায় রাখা। অগত্যা যেতেই হোলো ডিনারে।
গিয়েই নিজের ভাবনাচিন্তা খোলসা করে দিলাম সকলের সামনে আগেভাগেই। সায়ন দা-র বাবা-মাও অনেক বন্ধুবান্ধব আত্মীয়স্বজন সমেত LIC-র অন্য এক চেম্বারে খেতে এসে ছিলেন। আত্মীয়দের কি বলে জবাব দেবেন ভেবে না পেয়ে ভারি দুঃখ পেলেন। নিজেকে ভারি অপরাধী লাগল। তাই বলে একটা বেয়াক্কেলেপনা ঢাকতে গিয়ে আরও বড় ভুল করার তো কোনও মানে নেই। অগত্যা।
বাকি সময়টা ভদ্রতা বজায় রাখতে গিয়ে সুপ্রিয়া দি-র ক্লাসের জন্যে বেয়াড়া রকম দেরি করে ফেললাম। যথার্থভাবেই ক্লাসে ঢুকতে সাহস হোলো না। বাইরে থেকে উঁকি মেরে দেখলাম মোটে ৬-৭ জন মতো ক্লাস করছে।
পাবলো কে ফোন করে কুশলবার্তা জিজ্ঞেস করায় জানা গেল সে কোন বেয়াক্কেলে ক্লাব-এ নেচে বেড়াচ্ছে। মন খারাপ করে বাড়ি গিয়ে দেখি বাবা কম্পিউটার-এ বসে কীসব খুটখাট করছে। আমায় বাগে পেয়ে বিয়ে এবং গঞ্জিকা সেবন নিয়ে বিনা মুল্যে খানিক জ্ঞান বিতরণ করল।
রাতে পাবলো এলো গাড়ি স্কিড করাতে করাতে। চটজলদি জয়েন্ট ফুঁকেই রওনা দিল কোন এক বারে; সেখানে নাকি ডোনাল্ড ট্রাম্প এগারো বনাম কিম জন-উন এগারো প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচ দেখাবে।
আমি গতানুগতিকে ফিরে যাওয়ার দরুণ হাওড়া থেকে টিকিট কেটে বিহার মেইল ধরলাম। গাড়ি তে উঠে বুঝলাম সেটা আসলে একটা অ্যাম্বুলেন্স। বাকি জীবনটা কেবল দেশের ও দশের সেবা করব মতিস্থির করতে না করতেই প্যাঁ-পোঁ আওয়াজ করে গাড়ি ছেড়ে দিল।
মোক্ষম চালটি তখনও বুঝিনি। বুঝলাম কিছুক্ষণ পরে, যখন সায়ন দা এসে আমার টেবিলের পাশে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চোখ টিপে টিপে বিশ্রী রকম হাঁসতে লাগল। ব্যাপারখানা এই; ওর কোন এক বিহারি আত্মীয়র মেয়ের সঙ্গে আমার বিয়ের প্রস্তাবনা চলছে। কন্যা মার্কিন মুলুকে জ্ঞান অর্জনে ব্যস্ত।
বিষয়টি বোধগম্য হতেই মা কে ফোন করে বকাবকি করার পাশাপাশি বুঝিয়ে-সুঝিয়েও বল্লাম (কতবারই তো বলেছি, তবু) কেন আমি কিছুতেই বিয়ে করব না। মা-র এই হেন কূট চাল বিফলে যাওয়ায় মা ভারি মুষড়ে পড়ল। কিন্তু ভেজা কাঠ ভাঙবে তবু মচকাবে না। তাই মা আমায় পালটা বল্লে এই ক্ষণে আমার কর্তব্য হচ্ছে সামান্য সৌজন্যটুকু বজায় রাখা। অগত্যা যেতেই হোলো ডিনারে।
গিয়েই নিজের ভাবনাচিন্তা খোলসা করে দিলাম সকলের সামনে আগেভাগেই। সায়ন দা-র বাবা-মাও অনেক বন্ধুবান্ধব আত্মীয়স্বজন সমেত LIC-র অন্য এক চেম্বারে খেতে এসে ছিলেন। আত্মীয়দের কি বলে জবাব দেবেন ভেবে না পেয়ে ভারি দুঃখ পেলেন। নিজেকে ভারি অপরাধী লাগল। তাই বলে একটা বেয়াক্কেলেপনা ঢাকতে গিয়ে আরও বড় ভুল করার তো কোনও মানে নেই। অগত্যা।
বাকি সময়টা ভদ্রতা বজায় রাখতে গিয়ে সুপ্রিয়া দি-র ক্লাসের জন্যে বেয়াড়া রকম দেরি করে ফেললাম। যথার্থভাবেই ক্লাসে ঢুকতে সাহস হোলো না। বাইরে থেকে উঁকি মেরে দেখলাম মোটে ৬-৭ জন মতো ক্লাস করছে।
পাবলো কে ফোন করে কুশলবার্তা জিজ্ঞেস করায় জানা গেল সে কোন বেয়াক্কেলে ক্লাব-এ নেচে বেড়াচ্ছে। মন খারাপ করে বাড়ি গিয়ে দেখি বাবা কম্পিউটার-এ বসে কীসব খুটখাট করছে। আমায় বাগে পেয়ে বিয়ে এবং গঞ্জিকা সেবন নিয়ে বিনা মুল্যে খানিক জ্ঞান বিতরণ করল।
রাতে পাবলো এলো গাড়ি স্কিড করাতে করাতে। চটজলদি জয়েন্ট ফুঁকেই রওনা দিল কোন এক বারে; সেখানে নাকি ডোনাল্ড ট্রাম্প এগারো বনাম কিম জন-উন এগারো প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচ দেখাবে।
আমি গতানুগতিকে ফিরে যাওয়ার দরুণ হাওড়া থেকে টিকিট কেটে বিহার মেইল ধরলাম। গাড়ি তে উঠে বুঝলাম সেটা আসলে একটা অ্যাম্বুলেন্স। বাকি জীবনটা কেবল দেশের ও দশের সেবা করব মতিস্থির করতে না করতেই প্যাঁ-পোঁ আওয়াজ করে গাড়ি ছেড়ে দিল।
Comments
Post a Comment