#৫ - যথার্থ ঈশ্বর সেবা

     না, এ কথা ঠিকই যে বেশ কিছু দিন সেরকম উল্লেখযোগ্য স্বপ্ন আমি দেখিনি যা আমার মনে গভীর দাগ কেটে গেছে। তার জন্যে হয়তো বা আমার সাম্প্রতিক কালের উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন কে ( নানাবিধ কারণে বিনিদ্র রজনী কাটানো গোছের ব্যাপারস্যাপার ) খানিকটা হলেও দায়ী করা যেতে পারে।

     মাঝখানে এক দিন খালি দেখলাম যে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সিনিয়ার আমায় ফোন করে তার একের পর এক কেচ্ছার ফিরিস্তি দিতে লেগেছে; তারপর সেই কনফেরেন্স কল-এ তার এখনকার বান্ধবীও (যদিও তাকে আমি চিনিনা; মানে কে তা জানিই না; জানার প্রয়োজনও বোধ করি না) এসে জুটলো, এবং তারা দুজনে মিলে আমায় গাল-মন্দ করতে থাকলো কেচ্ছায় জড়িয়ে না পড়ার জন্যে। আমি আমতা-আমতা করে বলছিলাম যে প্রেম ছাড়া কেচ্ছা সম্ভব না, আর তাছাড়াও আজকাল তো মুখে মাস্ক পরে বেরোচ্ছে সবাই, তাই কারুরি মুখও দর্শন করতে পারছি না, অতয়েব প্রেম করা বা প্রেমে পড়া কী করেই বা সম্ভব, এমন সময় একটা অদৃশ্য বেড়াল ("দ্য ইনভিজিবল ম্যান"-এর ধাঁচেই), যে কী না অনেকক্ষণ একটা তোয়ালের তলায় লুকিয়ে রেখে ছিল নিজেকে, সে আমার হাঁটুর উপর লাফিয়ে ঝুলে পড়ে আমার ঘুম ঘেঁটে একশা করে দিল।

     কিন্তু যেটা বিগত কয়েক দিন ধরে জেগে থেকেও চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি, তা হোলো বাঞ্ছারাম-এর জিভে গজা। আর অন্য কোনওখানের জিভে গজা নয়। যে সে জিভে গজা নয়। ছানার গজাও নয়, পোনার গজাও নয়। স্রেফ বাঞ্ছারাম-এর জিভে গজাটি না হলে যে চলবে না আমার, এ কথা এই পরবাসেও স্পষ্টই অনুভব করছি। এও বুঝছি যে সে আমায় দর্শন দিচ্ছে। সেই বিশেষ ঘী তে ভাজা, সুন্দর গন্ধওয়ালা, গায়ের উপর সরু সরু দাগ কাটা জিভে গজা। অস্বীকার করা যাবে না যে বাঞ্ছারামের মান নিতান্তই পড়ে গেছে। ওদের অন্য কোনও মিষ্টিই আজকাল সেরকম পদবাচ্য বলে মনে হয় না। মা এখনও এরকম ডায়বিটিসের রুগী হয়েও ওদের ল্যাংচার মান নিয়ে  আমার সঙ্গে ঝগড়া করলেও বুক ঠুকে ওদের মিষ্টির সুপারিশ করা মুস্কিল। ওরকম অভাবনীয় পরটা আর সিঙ্গারার মান পর্যন্ত ওরা অক্ষত রাখতে পারেনি। এমন কী এই জিভে গজাও সেই জিভে গজা নয়। কিন্তু তবু এই জিভে গজা আজও শহরের যে কোনও জিভে গজা কে হেলায় হারাবে। বিভিন্ন গ্রীক এপিক নাটকে বা সিনেমায় আমরা যেরকম দেখেছি কোনও এক বৃদ্ধ হিরো কে মৃত্যু বরণ করার আগে শেষবারের মতো জ্বলে উঠতে, ঠিক তেমনই এই বাঞ্ছারাম-এর জিভে গজা। বাঞ্ছারাম-এর অনিবার্য, অবশ্যম্ভাবী পতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে একা দূর্গ রক্ষা করছে এই অদ্বিতীয় জিভে গজা। চারিদিক থেকে তাকে ঘিরে ধরেছে চকোলেট সন্দেশের মতো যবন রা। কিন্তু জিভে অবিচল। অটল, আত্মবিশ্বাসী। সে জানে এই পড়ন্ত বাজারে তার অর্ধেক ক্ষমতা এবং গুণপনা বিসর্জন দিয়েও সে বাদশা। নাহয় এ যাবত তার কোর্ট পোয়েট ( থুড়ি, রচনাবিদ ) কেবল আমি, কিন্তু এ ব্যাপারে নিশ্চিত থাকা যায় যে সময় বিশেষে তার যথার্থ রসগ্রাহীর অভাব ঘটবে না। 

     আমার বন্ধুরা যারা আচমকা আমার প্রেমহীন জীবন নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছে, তাদেরকে তাই আগাম জানিয়ে রাখি, আমার জীবনে প্রেমের স্তর গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে কেবল। আমি স্পষ্টতই অনুভব করছি আমি ঈশ্বরপ্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছি। ঈশ্বর সেবায় নিজেকে নিযুক্ত করতে পেরে আমি যারপরনাই আনন্দিত। সৌজন্যে বাঞ্ছারামের জিভে গজা। কথাতেই তো আছে, জিভে প্রেম করে যেই জন ... 

Comments

Popular posts from this blog

#৪ - জাতীয় সঙ্গীত, জিষ্ণুর অন্তর্ধান ও আম-কাসুন্দি

#২ - কাফ্কা জানেন

#৩ - বলব কি ভাই, আজগুবি ছাই